বর্তমানে বাংলাদেশে যানবাহন চালানোর জন্য বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালের নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে এখন লার্নার লাইসেন্সের আবেদন থেকে শুরু করে পরীক্ষার রেজাল্ট এবং স্মার্ট কার্ডের স্ট্যাটাস—সবকিছুই ঘরে বসে অনলাইনেই করা সম্ভব। দালালের ঝামেলা এড়িয়ে কীভাবে নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিজে করবেন, তার পূর্ণাঙ্গ গাইড থাকছে আজকের পোস্টে।
ধাপ ১: লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স সংগ্রহ করা।
১. রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে বিআরটিএ-র অফিসিয়াল পোর্টাল bsp.brta.gov.bd-তে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
২. তথ্য প্রদান: আপনার এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভেরিফাই করুন।
৩. ডকুমেন্ট আপলোড: রেজিস্টার্ড ডাক্তারের মাধ্যমে ইস্যু করা মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র আপলোড করুন।
৪. ফি জমা: নির্ধারিত লার্নার ফি অনলাইনে জমা দিন এবং সাথে সাথে আপনার লার্নার পারমিট ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
ধাপ ২: ড্রাইভিং পরীক্ষা ও বায়োমেট্রিক
লার্নার কার্ডে দেওয়া তারিখ অনুযায়ী আপনাকে নির্ধারিত কেন্দ্রে ড্রাইভিং পরীক্ষায় (লিখিত, মৌখিক ও প্রাকটিক্যাল) অংশগ্রহণ করতে হবে।
- পরীক্ষায় পাস করার পর আপনার মোবাইলে একটি অভিনন্দন বার্তা আসবে।
- এরপর আপনাকে পুনরায় পোর্টালে লগইন করে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক (আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি) দিতে হবে।
ধাপ ৩: ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ২০২৬
বর্তমানে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ফি কাঠামো কিছুটা এরকম:
- অপেশাদার (Non-Professional): ৫,০০০ - ৫,৫০০ টাকা (প্রায়, ১০ বছরের জন্য)।
- পেশাদার (Professional): ৩,০০০ - ৩,৫০০ টাকা (প্রায়, ৫ বছরের জন্য)। (বি.দ্র: ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জের কারণে ফি সামান্য কম-বেশি হতে পারে।)
ধাপ ৪: স্মার্ট কার্ডের স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম
অনেকেই লাইসেন্স পরীক্ষা দেওয়ার পর মাসের পর মাস অপেক্ষা করেন কিন্তু কার্ড হাতে পান না। এখন অনলাইনে সহজেই আপনার কার্ডের অবস্থা জানতে পারবেন:
১. BSP পোর্টালের মাধ্যমে: আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করে ‘আবেদনের স্থিতি’ মেনুতে গিয়ে বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন।
২. DL Checker App: গুগল প্লে-স্টোর থেকে 'DL Checker' অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার রেফারেন্স নম্বর দিয়ে কার্ডটি প্রিন্ট হয়েছে কি না তা চেক করতে পারবেন।
৩. স্ট্যাটাস মেসেজ: যদি সেখানে "Ready for Print" বা "Shipped" লেখা থাকে, তবে বুঝবেন আপনার কার্ডটি দ্রুতই ডাকযোগে বা অফিস থেকে পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. লার্নার কার্ড দিয়ে কি রাস্তায় গাড়ি চালানো যাবে?
উত্তর: না, লার্নার কার্ড শুধুমাত্র ড্রাইভিং শেখার জন্য। সাথে একজন লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক।
২. ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স কি বৈধ?
উত্তর: হ্যাঁ, বিআরটিএ এখন কিউআর কোড সম্বলিত ই-লাইসেন্স প্রদান করে যা স্মার্ট কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশকে দেখালে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
৩. লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কী করব?
উত্তর: প্রথমে থানায় একটি জিডি (GD) করুন এবং বিআরটিএ পোর্টালে লগইন করে ‘ডুপ্লিকেট লাইসেন্স’-এর জন্য আবেদন করুন।
ডিজিটাল বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া এখন অনেক বেশি স্বচ্ছ। নিয়ম মেনে আবেদন করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই আপনি আপনার স্মার্ট কার্ড পেতে পারেন। সরকারি সেবা ও প্রযুক্তির নিয়মিত আপডেট পেতে তথ্যধারা (Tothyodhara.com) এর সাথেই থাকুন।
আরও জানুন "অনলাইনে জমির খতিয়ান ও নামজারি (e-Mutation) করার নিয়ম : ঘরে বসেই পূর্ণাঙ্গ গাইড"

0 Comments