![]() |
|
হাম একটি ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক সংক্রামক রোগ। বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় সচেতন হওয়া জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, ব্রেন ইনফেকশন এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আজকের পোস্টে আমরা জানবো হামের লক্ষণ এবং এটি প্রতিরোধের সঠিক উপায়।
১. হামের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
হাম হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
- প্রচণ্ড জ্বর (১০৩-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে)।
- অনবরত কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
- জ্বরের ৩-৪ দিন পর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ ওঠা।
- মুখের ভেতরে সাদাটে ছোট দাগ (Koplik's Spots)।
- খাবারে অরুচি ও প্রচণ্ড ক্লান্তি।
২. হাম কীভাবে ছড়ায়?
হাম ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত রুমাল/জামাকাপড় থেকে সুস্থ ব্যক্তি সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে যারা টীকা নেয়নি, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
৩. আক্রান্ত হলে করণীয় (প্রতিকার)
আপনার শিশুর হাম হলে ভয় না পেয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:
- বিশ্রাম: রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে।
- তরল খাবার: প্রচুর পানি, ফলের রস এবং ডাবের পানি খাওয়ান।
- ভিটামিন-এ: হামের জটিলতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো খুব জরুরি।
- আলাদা রাখা: আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্য শিশুদের থেকে অন্তত ৭-১০ দিন আলাদা ঘরে রাখুন।
- প্যারাসিটামল: জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল দিন। ভুলেও এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেবেন না।
৪. হাম প্রতিরোধের একমাত্র উপায়: টীকা (MR Vaccine)
হাম থেকে বাঁচার একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো এমআর (MR) টীকা। বাংলাদেশ সরকারের ইপিআই (EPI) কর্মসূচির অধীনে বিনামূল্যে এই টীকা দেওয়া হয়।
- প্রথম ডোজ: ৯ মাস পূর্ণ হলে।
- দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস পূর্ণ হলে।
হাম কোনো সাধারণ অসুখ নয়, একে অবহেলা করা মানে শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলা। আপনার শিশুর টীকা নেওয়া আছে কি না নিশ্চিত করুন। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করুন।

0 Comments