Ticker

6/recent/ticker-posts

অনলাইনে জিরো ট্যাক্স (Zero Tax) রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬: ঘরে বসেই দিন আয়কর রিটার্ন (ছবিসহ গাইড)

 

অনলাইনে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬ সম্পর্কিত একটি প্রিমিয়াম ৩ডি ব্যানার।

যাদের ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট আছে, তাদের জন্য প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা এখন বাধ্যতামূলক। তবে অনেকেরই বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকে। তাদের কোনো কর দিতে হয় না, কেবল তথ্যের বিবরণী জমা দিতে হয়, যাকে আমরা 'জিরো রিটার্ন' বলি। ২০২৬ সালের নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে এখন আর আইনজীবীর পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। আজকে আমরা দেখব কীভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই অনলাইনে নিজের জিরো ট্যাক্স রিটার্ন নিজে দাখিল করবেন।

জিরো রিটার্ন দিতে কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?

​আবেদন শুরু করার আগে আপনার কাছে নিচের তথ্যগুলো রাখুন:

  • ​আপনার ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট।
  • ​এনআইডি (NID) কার্ড।
  • ​ব্যাংকের স্টেটমেন্ট (যদি থাকে)।
  • ​জীবনযাত্রার ব্যয়ের একটি আনুমানিক হিসাব।

অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিলের ধাপসমূহ:

ধাপ ১: ই-ট্যাক্স পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন বা লগইন

সরকারি ই-ট্যাক্স পোর্টালে নতুন ব্যবহারকারীর রেজিস্ট্রেশন এবং পুরাতন ব্যবহারকারীর লগইন ইন্টারফেসের ৩ডি ইলাস্ট্রেশন।

প্রথমে আয়কর বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট etaxbd.gov.bd এ প্রবেশ করুন। আপনার ই-টিন নম্বর এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে লগইন করুন।

ধাপ ২: রিটার্ন সাবমিশন (Return Submission) নির্বাচন

ই-ট্যাক্স ওয়েবসাইট থেকে সিঙ্গেল পেজ রিটার্ন বা জিরো রিটার্ন সাবমিশন অপশন সিলেক্ট করার দৃশ্য।

লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে 'Single Page Return' (যাদের আয় করযোগ্য সীমার নিচে তাদের জন্য এটি সহজ) অথবা 'Return Submission' মেন্যুতে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: আয়ের উৎস ও সম্পদের বিবরণী

বেতন, ব্যবসা বা কৃষি আয়ের উৎসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পদ ও দায়ের তথ্য পূরণ করার ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড।

যেহেতু এটি জিরো রিটার্ন, তাই আপনার বার্ষিক মোট আয় (যেমন ৩,৫০,০০০ টাকার নিচে) উল্লেখ করুন। আপনার জীবনযাত্রার ব্যয় (যেমন: থাকা-খাওয়া, যাতায়াত) এবং যদি কোনো সাধারণ সম্পদ (বাড়ি/গাড়ি/জমি) থাকে তার তথ্য প্রদান করুন।

ধাপ ৪: কর গণনা (Tax Computation)

অনলাইনে জিরো ট্যাক্স ক্যালকুলেশন এবং করযোগ্য আয় শূন্য (০) দেখানোর একটি স্বচ্ছ ৩ডি ইন্টারফেস।

সব তথ্য দেওয়ার পর সিস্টেম অটোমেটিক আপনার কর গণনা করবে। আপনার আয় করসীমার নিচে হলে সেখানে "Net Tax Payalble: 0" দেখাবে। এটি নিশ্চিত হওয়ার পর 'Preview' বাটনে ক্লিক করে সব দেখে নিন।

ধাপ ৫: সাবমিশন ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgment Slip)

সফলভাবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিশন শেষে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা একনলেজমেন্ট স্লিপ সংগ্রহের দৃশ্য।

সবকিছু ঠিক থাকলে 'Submit Return' বাটনে ক্লিক করুন। সাথে সাথে আপনার রিটার্ন সফলভাবে জমা হয়ে যাবে। এরপর আপনার Acknowledgment Slip এবং Certificate টি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন। এটিই আপনার রিটার্ন জমার প্রমাণ।

কিছু জরুরি প্রশ্ন (FAQ):

১. জিরো রিটার্ন দাখিল না করলে কি জরিমানা হয়?

  • ​উত্তর: হ্যাঁ, সময়মতো রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা এবং পরবর্তীতে টিন সার্টিফিকেট সংক্রান্ত জটিলতা হতে পারে।

২. প্রতি বছর কি রিটার্ন দিতে হবে?

  • ​উত্তর: হ্যাঁ, একবার টিন সার্টিফিকেট করলে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা নিয়ম।

৩. জিরো রিটার্ন দিতে কত টাকা খরচ হয়?

  • ​উত্তর: অনলাইনে নিজে করলে এটি সম্পূর্ণ ফ্রি


​ডিজিটাল পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্ন দাখিল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং সহজ। আশা করি এই পোস্টটি পড়ে আপনি নিজেই নিজের জিরো রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতি বছর সময়মতো রিটার্ন দাখিল করুন। পোস্টটি ভাল লাগলে এবং উপকারী মনে হলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তথ্যধারা'র পাশে থাকবেন।

Post a Comment

0 Comments