Ticker

6/recent/ticker-posts

অনলাইনে ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট করার নিয়ম ২০২৬: ঘরে বসেই করুন রেজিস্ট্রেশন (ছবিসহ গাইড)

 

২০২৬ সালের নতুন নিয়মে অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন করার গাইড।

ই-টিন সার্টিফিকেট এখন হাতের মুঠোয়! ২০২৬-এর নতুন নিয়মে ঘরে বসেই করুন রেজিস্ট্রেশন।


বর্তমান সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স বা সঞ্চয়পত্র কেনার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট একটি অপরিহার্য দলিল। আগে এই সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আয়কর অফিসে গিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো। কিন্তু ২০২৬ সালের নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে আপনি চাইলে আপনার এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে মাত্র ৫ মিনিটেই নিজের ই-টিন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন। আজকে আমরা ধাপে ধাপে ছবিসহ আলোচনা করব কীভাবে আপনি সঠিক নিয়মে ই-টিন আবেদন ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড করবেন।

ই-টিন (e-TIN) করতে কী কী প্রয়োজন?

​আবেদন শুরু করার আগে নিচের জিনিসগুলো সাথে রাখুন:

  • ​আপনার সচল এনআইডি (NID) কার্ড।
  • ​নিজের নামে নিবন্ধিত একটি মোবাইল নম্বর।
  • ​একটি সচল ইমেইল অ্যাড্রেস।

অনলাইনে ই-টিন রেজিস্ট্রেশনের ধাপসমূহ (ধাপে ধাপে ছবিসহ):

ধাপ ১: আয়কর বিভাগের পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন

আয়কর বিভাগের পোর্টালে ই-টিন রেজিস্ট্রেশন করার প্রথম ধাপ।

প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইট secure.incometax.gov.bd লিঙ্কে প্রবেশ করুন। সেখানে 'Register' বাটনে ক্লিক করে একটি ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্টটি তৈরি করে নিন।

ধাপ ২: ইউজার প্রোফাইল লগইন

ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ই-টিন পোর্টালে লগইন করার পদ্ধতি।

রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে আপনার দেওয়া ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। ড্যাশবোর্ডে গিয়ে 'TIN Application' বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান (Taxpayer Information)

ই-টিন আবেদনের জন্য করদাতার ব্যক্তিগত তথ্য এবং আয়ের উৎস পূরণ করার নিয়ম।

এখানে আপনার আয়ের উৎস এবং আপনি কেন টিন সার্টিফিকেট করতে চান (যেমন: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সঞ্চয়পত্র) তা নির্বাচন করুন। এরপর আপনার নাম, মা-বাবার নাম এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে লিখুন। মনে রাখবেন, তথ্যগুলো যেন অবশ্যই এনআইডি কার্ডের সাথে হুবহু মিল থাকে।


ধাপ ৪: এনআইডি ভেরিফিকেশন ও প্রিভিউ

এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে ই-টিন তথ্য ভেরিফিকেশন এবং প্রিভিউ করার ধাপ।

সব তথ্য পূরণ করা হলে একবার ভালো করে চেক করে নিন। এরপর আপনার এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভেরিফাই করুন। সিস্টেম অটোমেটিক আপনার ছবি এবং তথ্য সার্ভার থেকে মিলিয়ে নেবে।


ধাপ ৫: সার্টিফিকেট ডাউনলোড ও প্রিন্ট

অনলাইনে ডিজিটাল ই-টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করার শেষ ধাপ।

সবকিছু ঠিক থাকলে 'Submit' বাটনে ক্লিক করুন। সাথে সাথেই আপনার ই-টিন নম্বর জেনারেট হয়ে যাবে। এরপর 'View Certificate' এ ক্লিক করে আপনার ডিজিটাল ই-টিন সার্টিফিকেটটি PDF হিসেবে ডাউনলোড করে নিন।


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ):

১. ই-টিন সার্টিফিকেট করতে কত টাকা লাগে?

  • ​উত্তর: অনলাইনে ই-টিন রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ ফ্রি। সরকারিভাবে এর জন্য কোনো ফি লাগে না।

২. মোবাইল দিয়ে কি ই-টিন করা সম্ভব?

  • ​উত্তর: হ্যাঁ, আপনি আপনার স্মার্টফোনের ব্রাউজার ব্যবহার করে সহজেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।

৩. একবার টিন করলে কি প্রতি বছর ট্যাক্স দিতে হবে?

  • ​উত্তর: টিন সার্টিফিকেট থাকা মানেই ট্যাক্স দেওয়া নয়, তবে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক হতে পারে।

​ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন প্রতিটি নাগরিক সেবা আপনার হাতের মুঠোয়। আশা করি এই পোস্টটি পড়ার পর আপনি নিজেই নিজের ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারবেন। পোস্টটি উপকারে আসলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!

Post a Comment

0 Comments