পৈতৃক সম্পত্তি বা মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ব্যাংক ব্যালেন্স, শেয়ার বাজার বা সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাগজটি প্রয়োজন হয়, তা হলো 'উত্তরাধিকার সনদ' বা Succession Certificate। অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ারিশ কায়েম সনদ এবং আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেটের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন।
আজকের এই পোস্টে আমরা জানবো উত্তরাধিকার সনদ আসলে কী, এটি কেন প্রয়োজন এবং ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে এটি পাওয়ার সহজ উপায়।
উত্তরাধিকার সনদ (Succession Certificate) কী?
মৃত ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি (যেমন: ব্যাংকের টাকা, বিমা, প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি) দাবি করার জন্য আদালত থেকে যে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাকেই উত্তরাধিকার সনদ বলা হয়। মনে রাখবেন, জমিজমার জন্য ওয়ারিশান সনদ চললেও আর্থিক লেনদেনের জন্য আদালত প্রদত্ত সাকসেশন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।
এই সনদ কখন প্রয়োজন হয়?
১. মৃত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করতে।
২. সঞ্চয়পত্র বা শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে।
৩. মৃত ব্যক্তির নামে থাকা কোনো বিমা বা পেনশনের টাকা দাবি করতে।
৪. আদালতের মাধ্যমে সম্পত্তির সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
আবেদন করার আগে নিচের ডকুমেন্টসগুলো সংগ্রহ করে রাখুন:
- মৃত ব্যক্তির মূল মৃত্যু সনদ (Death Certificate)।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশান সনদ।
- আবেদনকারী ও সকল ওয়ারিশের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
- মৃত ব্যক্তির সম্পদের বিবরণ (যেমন: ব্যাংকের স্টেটমেন্ট বা সঞ্চয়পত্রের কপি)।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
আবেদন করার নিয়ম (Step-by-Step):
ধাপ ১: পারিবারিক আদালতে আবেদন
সাধারণত মৃত ব্যক্তি যেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন, সেই এলাকার জেলা জজ বা সহকারী জজ আদালতে (পারিবারিক আদালত) আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
ধাপ ২: বিজ্ঞাপন প্রকাশ
আদালত আবেদনটি গ্রহণ করার পর কোনো দাবিদার আছে কি না তা জানতে পত্রিকায় একটি ছোট বিজ্ঞাপন দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ আপত্তি না জানালে পরবর্তী ধাপ শুরু হয়।
ধাপ ৩: শুনানি ও তথ্য যাচাই
আদালত সকল ওয়ারিশের তথ্য এবং এনআইডি যাচাই করবেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হতে পারে।
ধাপ ৪: কোর্ট ফি প্রদান
সম্পত্তির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। সাধারণত ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি লাগে না, তবে এর বেশি হলে ১-২% পর্যন্ত ফি নির্ধারিত হতে পারে।
ধাপ ৫: সনদ সংগ্রহ
সব প্রক্রিয়া শেষে আদালত আপনার পক্ষে রায় দিলে আপনি 'উত্তরাধিকার সনদ' বা সাকসেশন সার্টিফিকেট হাতে পাবেন।
উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করা কিছুটা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হলেও সঠিক তথ্য জানা থাকলে এটি খুব একটা জটিল নয়। আপনার পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক সময়ে এই সনদটি সংগ্রহ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও জানুন "উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর : অনলাইনে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বা হিসাব করার সহজ নিয়ম"

0 Comments