![]() |
|
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম (Universal Pension Scheme) একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আপনি সরকারি চাকরিজীবী হোন বা বেসরকারি, প্রবাসী হোন বা সাধারণ শ্রমিক—সবার জন্যই এখন পেনশনের সুবিধা রয়েছে। আজকের পোস্টে আমরা জানবো কীভাবে ঘরে বসেই এই পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়া যায় এবং এর সুবিধাগুলো কী কী।
আরও জানুন: হামের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধের সঠিক নিয়ম: আপনার শিশুকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
পেনশন স্কিমের ৪টি মূল ক্যাটাগরি
সরকার নাগরিকদের পেশা ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে ৪টি আলাদা স্কিম চালু করেছে:
- প্রবাস স্কিম: বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য।
- প্রগতি স্কিম: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য।
- সুরক্ষা স্কিম: স্ব-কর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি যেমন—কৃষক, ফ্রিল্যান্সার, রিকশাচালক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য।
- সমতা স্কিম: স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য (যাদের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার টাকার কম)।
পেনশন স্কিমের মাসিক জমার হার ও সুবিধাভোগী (Table)
নিচে একটি চার্ট দেওয়া হলো যা দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন স্কিমে কত টাকা জমা দিতে হবে:
স্কিমের নাম মাসিক জমার পরিমাণ (টাকা) সুবিধাভোগী প্রবাস ৫০০০, ৭৫০০ বা ১০০০০ প্রবাসী বাংলাদেশি প্রগতি ২০০০, ৩০০০ বা ৫০০০ বেসরকারি চাকরিজীবী সুরক্ষা ১০০০, ২০০০, ৩০০০ বা ৫০০০ স্ব-কর্মী (কৃষক/ব্যবসায়ী) সমতা ১০০০ (৫০০ আপনি + ৫০০ সরকার) স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ দ্রষ্টব্য: সমতা স্কিমে আপনার জমার অর্ধেক টাকা সরকার অনুদান হিসেবে প্রদান করবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইনে আবেদন করার আগে নিচের তথ্যগুলো সাথে রাখুন:
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
- একটি সচল মোবাইল নম্বর।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (অ্যাকাউন্ট নম্বর ও রাউটিং নম্বর)।
- নমিনীর এনআইডি (NID) এবং ছবি।
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার ধাপসমূহ
খুব সহজেই আপনি আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন:
- প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.upension.gov.bd এ প্রবেশ করুন।
- 'পেনশনার রেজিস্ট্রেশন' বাটনে ক্লিক করে আপনার এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিন।
- আপনার পেশা অনুযায়ী সঠিক স্কিমটি (যেমন: প্রগতি বা সুরক্ষা) নির্বাচন করুন।
- মাসিক জমার পরিমাণ এবং নমিনীর তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
- সবশেষে পেমেন্ট গেটওয়ে (বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক) সেট করে আবেদনটি সাবমিট করুন।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিশেষ সুবিধাসমূহ
- আজীবন পেনশন: ৬০ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে মৃত্যু অবধি আপনি প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে পেনশন পাবেন।
- বিনিয়োগ সুবিধা: আপনি যে টাকা জমা দেবেন, তার ওপর সরকারি ট্যাক্স ছাড় পাওয়া যাবে।
- নমিনী সুবিধা: পেনশনার মারা গেলে তার নমিনী ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন।
- ঋণ সুবিধা: জমাকৃত টাকার ৫০% পর্যন্ত লোন বা ঋণ হিসেবে নেওয়া যাবে।
উপসংহার
ভবিষ্যতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের সঞ্চয় দিয়ে জীবন গড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সর্বজনীন পেনশন স্কিম আমাদের সেই সুযোগটিই দিচ্ছে। তাই দেরি না করে আজই আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী একটি স্কিমে নিবন্ধন করে নিন।
আপনার মনে কি কোনো প্রশ্ন আছে? আপনি কোন স্কিমে আবেদন করতে চান তা আমাদের কমেন্ট করে জানান। পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদেরও জানার সুযোগ করে দিন।
আরও জানুন: ঘরে বসে অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন করবেন কীভাবে? জানুন নতুন নিয়ম

0 Comments