![]() |
| ফাইল ফুটেজ |
বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন: কিউই ঝড়ে কুপোকাত প্রোটিনারা, ফাইনালে নিউজিল্যান্ড
ভেন্যু: ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী (৪৩ বল বাকি থাকতেই)
১. দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং বিপর্যয় ও জানসেনের লড়াই
টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। শুরুতেই কিউই স্পিনার কোল ম্যাককনকি ও পেসারদের তোপে পড়ে প্রোটিনারা। মাত্র ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন তারা চরম বিপর্যয়ে, তখন হাল ধরেন মার্কো জানসেন ও ট্রিস্টান স্টাবস।
- মার্কো জানসেন: ৩০ বলে অপরাজিত ৫৫ রান (২টি চার, ৫টি ছক্কা)।
- ট্রিস্টান স্টাবস: ২৪ বলে ২৯ রান। এই জুটির কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৬৯/৮ রানের একটি লড়াই করার মতো পুজি পায়। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ম্যাট হেনরি ও রাচিন রবীন্দ্র ২টি করে উইকেট নেন।
২. ফিন অ্যালেনের ঐতিহাসিক তাণ্ডব
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেন যা করলেন, তা বিশ্ব রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণকে পাত্তাই না দিয়ে তিনি মাঠের চারদিকে ছক্কার বৃষ্টি নামান।
- রেকর্ড: মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিন অ্যালেন, যা টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরি।
- ইনিংস: ১২.৫ ওভারে দল যখন লক্ষ্যে পৌঁছায়, অ্যালেন তখন ১০০ রানে অপরাজিত। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৮টি বিশাল ছক্কা।
- পার্টনারশিপ: ওপেনিংয়ে টিম সাইফার্টের (৫৮) সাথে ১১৭ রানের জুটি ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার হাত থেকে পুরোপুরি কেড়ে নেয়।
৩. দক্ষিণ আফ্রিকার হারের কারণ বিশ্লেষণ
- পাওয়ার-প্লে-তে ব্যর্থতা: শুরুতেই কুইন্টন ডি কক ও এইডেন মার্করামের মতো বড় তারকাদের হারানো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।
- বোলিং লাইনআপের অসহায়ত্ব: কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নরকিয়ারা ফিন অ্যালেনের ঝড়ের সামনে কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।
- শিশির ফ্যাক্টর: দ্বিতীয় ইনিংসে ইডেনের পিচে শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, যার সুবিধা কিউই ব্যাটাররা দারুণভাবে নিয়েছেন।
৪. নিউজিল্যান্ডের জয়ের চাবিকাঠি
- নিখুঁত পরিকল্পনা: শুরুতে স্পিনারদের দিয়ে আক্রমণ করানো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডার ধসিয়ে দেওয়া ছিল টার্নিং পয়েন্ট।
- অকুতোভয় ব্যাটিং: ফিন অ্যালেনের 'ভয়ডরহীন' ক্রিকেট খেলার মানসিকতা দক্ষিণ আফ্রিকাকে মানসিকভাবে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই হার আরও একবার তাদের 'চোকার্স' অপবাদকে উসকে দিল। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের এই দাপুটে পারফরম্যান্স তাদের আসন্ন ফাইনালের জন্য ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। আগামী কাল ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দলের বিপক্ষে আহমেদাবাদে ফাইনালে লড়বে কিউইরা।

0 Comments